শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শীতকাল এবং নোভেল করোনার দ্বিতীয় তরঙ্গ নিয়ে আমরা সবাই কমবেশি চিন্তিত। বিশ্বের জনস্বাস্থ্য গবেষক এবং করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর সরকার প্রধানরা করোনার দ্বিতীয় তরঙ্গ বিষয়ে উদ্বিগ্ন, চিন্তিত। ইতোমধ্যেই তারা প্রতিরোধ মূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছেন।

বাংলাদেশ উত্তর গোলার্ধের দেশ হওয়ার কারণে শীতঋতু আসন্ন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী শীতকালে করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় তরঙ্গের আশঙ্কা করেছেন। ইউরোপের দেশগুলোয় করোনার প্রকোপ কিছুটা কমে এসেছিল, কিন্তু আবারও নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে। কিছু দেশ যেমন- আলবেনিয়া, বুলগেরিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র ও মেসিডোনিয়ায় অন্যান্য মাসের তুলনায় আগস্টে সংক্রমণ বেশি দেখা গেছে। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পোল্যান্ড ও স্পেনে দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে, যেহেতু নতুন করে আবার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ লক্ষণীয়। যদিও কারণটা নিশ্চিত নয়, তবে আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। জীবনের প্রয়োজনে মানুষের অবাধ বিচরণ এবং করোনা সতর্কতা মেনে না চলার কারণেও সংক্রমণের মাত্রা ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। তবে দেশগুলো ইতোমধ্যে এর সম্ভাব্য মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছে। সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ বলতে করোনা সংক্রমণ নিম্নমুখী হওয়া থেকে হঠাৎ আবার ঊর্ধ্বমুখী হওয়াকে বোঝায়। সাধারণত সংক্রমণের হার যখন ৫ শতাংশ অথবা ১০ শতাংশ নিচে আসে, তখন সেটিকে নিম্নমুখী বলা যায়। কিন্তু আমরা এ হারটা এখনো ১০ শতাংশের নিচে দেখতে পাচ্ছি না। প্রকৃতপক্ষে সংক্রমণের হার নির্ণয়ই কঠিন আমাদের দেশে, যেখানে টেস্ট সংখ্যাও কম এবং উপসর্গ বিহীন রোগী ধরাছোঁয়ার বাইরে। করোনা ভাইরাস মানুষের দেহের ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বংশবৃদ্ধি করছে। আর করোনা গরম ও ঠান্ডা আবহাওয়ার সব দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে, তাই বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা বাড়া বা কমার সঙ্গে সরাসরি প্রভাব ততটা হয়তো হবে না। তবে আসন্ন শীতকালে সংক্রমণ হয়তো এখনকার তুলনায় বৃদ্ধি পেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, করোনার দ্বিতীয় তরঙ্গ ছাড়াও এক তরঙ্গের মাঝে আরও ছোট ছোট একের অধিক তরঙ্গ আসতে পারে। প্রধান কারণ হিসেবে করোনা ভাইরাসের জন্য অনুকূল আবহাওয়া ও পরিবেশের কিছু নিয়ামকের ভূমিকার কথা উল্লেখ করা যায়। সাধারণত যেসব ভাইরাস শীতে মানুষের মধ্যে সর্দি-কাশি ঘটায়, সেসব ভাইরাস ঠান্ডা আবহাওয়া ও আর্দ্র পরিবেশে সক্রিয় হয়ে ওঠে। সে কারণে আমেরিকার ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের মতে, উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোয় শীতকালে করোনা আক্রান্তের হার বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা অনুযায়ী, এই পরিবেশে ভাইরাসটি বেশি ছড়াতে পারে। তবে এই সময়ে করোনার প্রকোপ বাড়ার কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা তিনটি বিষয়কে সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন।

প্রথমত, শীতকালে আমরা ঘরে আবদ্ধ থাকি, এ আবদ্ধ পরিবেশে করোনা ছড়ানোর আশঙ্কা বেশি। যত দীর্ঘ সময় ঘরে আবদ্ধ থাকা হবে, ভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কাও বেড়ে যাবে।

দ্বিতীয়ত, এই ভাইরাস ঠান্ডা আবহাওয়া ও আর্দ্র পরিবেশে বেশিদিন বেঁচে থাকতে পারে। কম আর্দ্রতায় এর ভাইরাল কণাগুলো অ্যারোসলে পরিণত হয়, যা দীর্ঘসময় বাতাসে অবস্থান করতে পারে। ফলে শীতকালে বায়ুবাহিত সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

তৃতীয়ত, এই সময়ে ভাইরাসের বিরুদ্ধে আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। শীতকালীন আর্দ্র বাতাস আমাদের শ্বাসনালির কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যা দেহ থেকে ভাইরাস কণাকে দূর করে। আবার সূর্যের আলো আমরা কম পাই এবং এ কারণে শরীরে ভিটামিন ডি তৈরি হয় কম। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা অনুযায়ী ভিটামিন ডির স্বল্পতা মানবদেহকে এ রোগের প্রতি সংবেদনশীল করে তুলতে পারে।

অতএব গবেষণা তথ্য অনুযায়ী আসন্ন শীতের ব্যাপারে আমাদের সচেতন হতে হবে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, লকডাউন প্রত্যাহারের পর থেকে সামাজিক দূরত্ব, মাস্ক পরিধান, জীবাণুনাশক দ্বারা হাত পরিষ্কারের ব্যাপারে আমরা যথেষ্ট উদাসীন। ধারণা করা হচ্ছে, ৮০-৯০ শতাংশ মানুষ সঠিকভাবে অথবা কোনো মাস্ক পরে না।

গ্রামে এ সংখ্যাটি আরও বেশি। যদিও করোনা ভয় কমলেও ভয়াবহতা কমেছে বলা যায় না। শীতে করোনা ও অন্যান্য ভাইরাস একত্রে ভয়াবহতা আরও বাড়াতে পারে। আশার কথা, বিশ্ববিখ্যাত সাময়িকী ‘মেডরিক্স’-এ প্রকাশিত নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, আমেরিকার নিউইয়র্ক এবং অন্যান্য শহরে মাস্ক পরিধান, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার মাধ্যমে শীতের সময়ে ভাইরাসটির সংক্রমণ কমে গেছে। গবেষণাটি এখন পিয়ার রিভিউতে আছে। তাই শীতকালকে মাথায় রেখে এই ভাইরাসের দ্রুত সংক্রমণ ঠেকাতে মাস্ক পরিধান, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার প্রতি কড়াকড়ি আরোপ এখন থেকেই জরুরি।

করোনা ও শীতকালীন সর্দি-কাশি, হাঁপানি প্রতিরোধে করণীয় ঠিক করতে হবে। যেহেতু করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কার্যকরী কোনো ওষুধ কিংবা ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়নি, ভ্যাকসিন না আশা পর্যন্ত জীবনের খুঁটিনাটি কিছু বিষয়ে অতিসতর্ক থাকতে হবে। ঠান্ডা খাবার ও পানীয় পরিহার করতে হবে। এক কাপ লেবু মিশ্রিত চায়ের মধ্যে এক চা-চামচ মধু মিশিয়ে পান করতে পারেন। মধু কাশি কমাতে সাহায্য করে এবং গলাব্যথা উপশম করে। এ ছাড়া আদা চা ও গরম পানি খাওয়া যেতে পারে। ঠান্ডা লাগা থেকে নিজেকে রক্ষার নিয়মগুলো সচেতনভাবে মেনে চললে ঠা-াজনিত রোগগুলোকে প্রতিহত করা যায়। এর পরও সর্দি-কাশি ভালো না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কুসুম গরম পানি পান এবং এক গ্লাস গরম পানিতে আধা চা-চামচ লবণ মিশিয়ে কুলকুচা বা গড়গড়া করতে হবে। এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন তিনবেলা করে গড়গড়া বা কুলকুচা করবেন। শীতের সময় কোনোভাবেই ঠান্ডা লাগানো যাবে না। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাইকেই শীত নিবারণের পোশাক সঠিকভাবে পরতে হবে। অনেক সময় দেখা যায় যে, বাড়ির বড় কারও ঠান্ডা লাগলে তারা শিশুদের সামনে হাঁচি বা কাশি দেয়। একটা বড় মানুষের হাঁচিতে লাখ লাখ জীবাণু থাকে, যা শিশুদের শ্বাসের মাধ্যমে ঢুকে তাদের আক্রান্ত করে ফেলতে পারে। সামাজিক অনুষ্ঠান বা লোকসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। ঘরের ভেতর বাতাস চলাচল করতে দিতে হবে। হাঁপানি বা অ্যাজমা রোগীদের ক্ষেত্রে শীতকালে ডাক্তারের পরামর্শমতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যাদের অনেক দিনের শ্বাসকষ্ট আছে, তাদের জন্য ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোকক্কাস নিউমোনিয়ার টিকা নেওয়া উচিত। তাজা ফল, পুষ্টিকর খাদ্যগ্রহণ এবং পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে দেহকে সতেজ রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে। হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে। বিশেষ করে চোখ বা নাক মোছার পর পরই হাত ধোয়া। সাধারণভাবে রাস্তায় চলাচলের সময় সঠিকভাবে মাস্ক পরতে হবে, আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকতে হবে এবং তার ব্যবহৃত জিনিসপত্র ব্যবহার না করাই ভালো। সামাজিক দূরত্ব ও নিয়মিত হাত পরিষ্কার করতে হবে। মাস্ক এ ক্ষেত্রে ভ্যাকসিনের পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মাস্ক ব্যবহার করলে তা ভেদ করে অল্প কিছু ভাইরাস ঢুকলেও সেটি কোভিভ-১৯ এর জন্য পর্যাপ্ত নয়, বরং তা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সেনসিটাইজ করে ভ্যাকসিনের মতো কাজ করতে পারে।

এমতাবস্থায় নিজেদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোই একমাত্র হাতিয়ার হয়ে দেখা দিয়েছে। নিয়মমাফিক ঘুমাতে হবে। প্রত্যহ ১৫ থেকে ৩০ মিনিট ব্যায়াম করতে হবে। ভিটামিন ডির জন্য প্রতিদিন রোদ পোহাতে হবে। ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফলমূল, শাকসবজি বেশি বেশি খেতে হবে। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে।

প্রতিদিন লেবু দিয়ে গরম পানি খাওয়া যেতে পারে। স্মরণ রাখতে হবে, সৃষ্টিকর্তার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোই এখন আমাদের একমাত্র ভরসা। পরিশেষে এটা বলা যায়, আগামী শীতকে মাথায় রেখে এটার বাস্তবায়ন জোরদার করতে হবে। আমাদের অবশ্যই চিকিৎসাগত সদিচ্ছার পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে আগাম বিপদ মোকাবিলায়। সবাইকে কমিউনিটি সতর্কতা পালনে ক্রিয়াশীল করতে হবে। আতঙ্ক নয়, সচেতনতাই পারে আমাদের বাঁচাতে। পোস্ট করোনা নিউ নরমাল লাইফে অ্যাডজাস্ট করে নিতে হবে। যে যত দ্রুত ‘নিউ নরমাল’ লাইফের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারবে, সেই টিকে যাবে। অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে এখন যে যুদ্ধ চলছে, প্রত্যেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দায়িত্বশীল আচরণের মধ্য দিয়ে এ অমানিশা কাটিয়ে উঠতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক পরিবর্তন করা হলেও তা এখন সময়ের প্রয়োজনে অপ্রতুল। পর্যাপ্ত মনিটরিং ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতায় এখনো স্বাস্থ্যসেবা বেশ পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশে। এ ছাড়া ভ্যাকসিন তৈরি হওয়ার পর ঠিক কবে নাগাদ বাজারে সরবরাহ করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে এখনই পর্যাপ্ত মনিটর করা উচিত, যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যেই সাধারণ জনগণের হাতে এই ভ্যাকসিন পৌঁছে দিয়ে অর্থনীতির চাকা দ্রুত সচল করা যায়।

বাংলাদেশের করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় তরঙ্গের প্রভাব ২০২১-২২ অর্থবছরেও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাজার ব্যবস্থাপনা এবং ভোক্তাদের আচরণের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে, যার কিছুটা বর্তমান বাজারেও লক্ষ করা যাচ্ছে। বিভিন্ন পণ্যের দাম একই দিনের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে বাড়ছে। সেই সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতিতে যে বেকারত্বের চাপ বেড়েছে, তা বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে আরও ভয়াবহ হতে পারে, যা দারিদ্র্য ও বৈষম্যকে আরও দ্রুত বৃদ্ধি করতে পারে। এ ছাড়া গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এখানে কিছুটা সচল হলেও সেকেন্ড ওয়েভের কারণে তা আবার ব্যাহত হতে পারে। এর ফলে আরও অধিক বেকারত্ব সৃষ্টি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ছাড়া সরকার যেসব প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল, তা এখনো পরিপূর্ণভাবে বণ্টন সম্ভব হয়নি। ফলে অনেক ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প ই-কমার্সের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও ই-কমার্সের নিয়মনীতিগত সমস্যার কারণে তা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ক্রেতা বা বিক্রেতা উভয় পক্ষেরই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সুযোগ রয়ে গিয়েছে। এ ছাড়া এই অর্থনৈতিক স্থবিরতায় হিউম্যান ট্রাফিকিং, সামাজিক অপরাধের মতো বিষয়গুলোয় যেন পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, নারী, শিশু, কিশোরীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে গভীরভাবে নজরদারি প্রয়োজন।

ড. আনোয়ার খসরু পারভেজ : গবেষক ও অধ্যাপক, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রেষণে কোষাধ্যক্ষ, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা।

অনলাইনে ডক্টর ও টেলিমেডিসিন সেবা এখন খুব সহজ

যেকোন ডাক্তারের অ্যাপয়েন্ট পেতে গুগল প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করুন স্বাস্থ্য বিডি মোবাইল অ্যাপ অথবা ভিজিট করুন https://shasthobd.com/ এবং বিস্তারিত জানতে কল করুন +8801400-040404 নম্বরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *