শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  • 0
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সুস্থ জীবন আমাদের সকলের কাম্য। সব মানুষই চায় সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন। বর্তমানে একজন পুরুষের গড় আয়ু ৬৮.৫ বছর এবং একজন মহিলার গড় আয়ু ৭৩.৫বছর। শুধুমাত্র দীর্ঘ জীবন নয় সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন পাওয়ার জন্য কতগুলো পন্থা অবলম্বন করা একান্ত প্রয়োজন। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে খাদ্য অভ্যাস পরিবর্তন । চলুন দেখি কি ধরনের খাদ্য অভ্যাস আমাদের দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের জন্য সহায়ক ।

১) এন্টিঅক্সিডেন্ট —

 ফ্রিরেডিকেল আমাদের দেহের সুস্থ কোষগুলোকে ধ্বংস করতে পারে।এগুলো ক্যান্সার এর মতো জটিল রোগের কারন এবং আপনার বার্ধক্যেকে ত্বতরান্বিত করে।কিন্তু যেসব খাদ্য এন্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ তা ফ্রিরেডিকেল এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে। গাড় বর্নযুক্ত রঙিন শাকসবজী ও ফলমূল গুলোতে প্রচুর পরিমানে এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকে।

২) বেরি —

এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি এন্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাদ্য যা ক্যান্সার ও মস্তিষ্কের কিছু জটিল রোগ প্রতিরোধ করে।এগুলো ফ্রিজিং করলেও গুনগত মান ঠিক থাকে এবং  দীর্ঘদিন সংগ্রহ করা যায়। তাই সুস্থ থাকতে বছর জুড়ে বেরি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। 

৩) অলিভ অয়েল —

এই সুস্বাদু ভালো ফ্যাট টি রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া প্রদাহ জনিত রোগ সমূহের বিরুদ্ধে অলিভ অয়েল সর্বদাই সক্রিয়। কিছু গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় দেখা যায় অলিভ অয়েল কোলেস্টেরল এর মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। 

৪) মাছ —

যাকে ব্রেইনের খাদ্য বলা হয়ে থাকে। কারণ এর ফ্যাটি এসিড, ডি.এইচ.এ এবং ই.পি.এ মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের কার্জক্রম সঠিকভাবে পরিচালিত হতে সরাসরি ভূমিকা পালন করে। সপ্তাহে মাত্র দুই এক দিন মাছ খাওয়ার অভ্যাস ডিমেনশিয়া নামক জটিল রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে। ফ্যাটি মাছ যেমন স্যালমন, ট্রট এর মাঝে ওমেগা-৩ ফ্যাট পাওয়া যায় যা রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইড এর মাত্রা কমায়। এটি রক্তনালির ভেতরে জমাট বাধা ফ্যাট দূরীকরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

৫) মটরশুটি —

একে বলা হয় পুষ্টির পাওয়ারহাউজ। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন খাদ্য তালিকায় মটরশুটি থাকা উচিৎ। এটি হজম শক্তি বৃদ্ধি সহ স্থুলতা, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিস এর মতো মারাত্মক রোগের সম্ভাবনা কে কমিয়ে আনে।

৬) শাকসবজি —

শাকসবজিতে রয়েছে প্রচুর আঁশ, এন্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও মিনারেল যা অনেক জটিল ও দুরারোগ্য ব্যাধি প্রতিরোধে সহায়তা করে। গাঢ় সবুজ বর্নের পাতাযুক্ত সবজিগুলো ভিটামিন কে সমৃদ্ধ এবং মজবুত হাড় গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মিষ্টি আলু এবং গাজরে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন এ যা স্বাস্থ্যকর স্কিন ও চোখের জন্য দরকার।এছাড়াও ভিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ রোধেও ভিটামিন-এ গুরুত্বপূর্ণ। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে একজন ব্যাক্তি, যার খাদ্য তালিকায় সপ্তাহে ১০ বার বা তার বেশি সময় টমেটো ছিলো তার প্রষ্টেট ক্যান্সার এর সম্ভাবনা  ৩৫% কম।

বাদাম —

বাদাম কোলেস্টেরল মুক্ত উদ্ভিজ্জ প্রোটিন ও বিভিন্ন পুষ্টিতে পরিপূর্ণ। কাজুবাদামে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন – ই যা মহিলাদের স্ট্রোক এর ঝুঁকি কমিয়ে আনে। পিক্যান (pecan) এ রয়েছে এন্টঅক্সিডেন্ট। আখরোট (walnut) এ রয়েছে অসম্পৃক্ত ফ্যাট যা রক্তের ক্ষতিকর এল.ডি.এল (LDL) কমাতে এবং  উপকারি এইচ.ডি.এল (HDL) বাড়াতে সাহায্য করে। 

দুধ ও এর দুগ্ধ জাত দ্রব্য — 

পাস্তুরিত দুধ ও এর উপজাত দ্রব্য গুলো শরীরে ভিটামিন-ডি এর ঘাটতি পূরণ করে এবং হাড় ক্ষয় রোধ করে। এছাড়াও টক দই হজম শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। 

হোল গ্রেইনস বা শস্য দানা —

খাদ্যা তালিকায় বিভিন্ন শস্য দানার সংযুক্তি বহু রোগের সম্ভাবনা কমিয়ে ফেলে যেমন ক্যান্সার, টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগ। এর আঁশ হজম শক্তি বৃদ্ধি করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য এর মতো রোগ হতে মুক্তি দেয়।

সূত্র : WebMd

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *