শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

যখন রক্ত যথাযথ ভাবে হৃদপিন্ডে পৌছাতে বাধাগ্রস্থ হয় তখন হৃদপিন্ডের মাংসপেশী গুলো তার প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পায় না। আর অক্সিজেন ছাড়া এর কোষ গুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয় অথবা মরে যায়। এমন অবস্থায় রক্ত সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করতে প্রয়োজন তাৎক্ষণিক চিকিৎসার, বিশেষত যদি লক্ষন গুলো আপনার কাছে হার্ট এ্যাটাকের মনে হয়।

কি কি কারণে হার্ট এ্যাটাক হয়?

দীর্ঘ সময় কোলেস্টেরল এবং ফ্যাট জাতীয় বস্তু যেটাকে প্লাক বলা হয় তা রক্তনালীর ভিতরের দেয়ালে স্তরীভূত হয়। ফলে রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হয়। যখন প্লাক এর কোন অংশ ভেঙে যায় এবং তার চারপাশে রক্ত জমাট বেধে যায়, তখন রক্তনালী বন্ধ হয়ে যায় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তখনই হার্ট এ্যাটাক ঘটে।

কি কি লক্ষন দেখা দেয়?

এমতাবস্থায় আপনি বুকে প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব করবেন। সাথে বুকে চাপ ও অস্বস্তি অনুভূত হয়। হার্ট এ্যাটাকের লক্ষন গুলোর মধ্যে আরো রয়েছে শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হওয়া, দূর্বল লাগা, ঘাম হওয়া, পেটে অস্বস্তিকর অনুভূতি হওয়া। এছাড়া আপনি ঘাড়, চোয়াল কিংবা কাধেও ব্যাথা অনুভব করতে পারেন।

নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে লক্ষন গুলো ভিন্ন হতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে কোমড় ও কাধ ব্যাথা, বুক জ্বলা, শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হওয়া বেশি দেখা যায়। অনেক সময় হার্ট এ্যাটাকের পূর্বে নারীরা অধিক দূর্বলতা, ঝিম ধরা, ঘুমের সমস্যা এবং সাধারণ ঠান্ডা জ্বরের এর মতো লক্ষন গুলো অনুভব করেন।
ইউএসএ এর একটি জরিপে দেখা গেছে সেখানে প্রতি বছর ৪,৩৫,০০০ শুধু নারীরাই হার্ট এ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। আর তাদের ক্ষেত্রে লক্ষন গুলো এতো মৃদু হয় যে অনেক ক্ষেত্রেই ভুলবশত তারা এটাকে গুরুত্বহীন মনে করে থাকে।

কি করনীয়?

যদি আপনি অথবা যেকেউ হার্ট এ্যাটাকের এই লক্ষন গুলো অনুভব করেন তাহলে দ্রুত ৯৯৯ এ কল করুন অথবা নিকটবর্তী কোন হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে যোগাযোগ করুন। যদি এটি হার্ট এ্যাটাকই হয়ে থাকে আর আপনি ৯০ মিনিটের মধ্যে যথাযথ চিকিৎসার আওতায় আসতে পারেন তাহলে ক্ষতির সম্ভাবনা অনেকটাই কমে আসে। ইমার্জেন্সি চিকিৎসার আওতায় আসার পূর্বে একজন ব্যক্তি যত দ্রুত সম্ভব এসপিরিন ট্যাবলেট (যদি এলার্জিক না হয়) মুখে নিয়ে চুষে খেতে থাকবেন যা রক্ত জমাট হওয়াতে বাধা প্রদান করে। তাই বাসায় এ জাতীয় ওষুধ সংগ্রহে রাখা খুবি জরুরী।
আর যদি ব্যাক্তি অবচেতন হয়ে পড়েন তাহলে তাকে দ্রুত সিআরপি দিতে হবে যা তার বেচে থাকার সম্ভাবনা কে বাড়িয়ে তোলে।

যে বিষয় গুলো আপনাকে হার্ট এ্যাটাকের ঝুকিতে ফেলতে পারে-

বয়স বাড়ার সাথে এবং পুরুষদের মাঝে এর সম্ভাবনা বেশি থাকে। হার্ট এ্যাটাকের বংশগত ইতিহাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া ধূমপান, অলস জীবন যাপন, স্থুলতা, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ মাত্রার কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, দুশ্চিন্তা হার্ট এ্যাটাকের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে তোলে।

প্রতিরোধের উপায় কি?

হার্ট এ্যাটাক থেকে রক্ষা পেতে হলে আপনাকে প্রথমত ধূমপান ত্যাগ করতে হবে।
নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুলুন। দ্যা আমেরিকান হার্ট এসোসিয়েশন এর মতে সপ্তাহে ৫ দিন মাত্র ৩০ মিনিটের মাঝারি ব্যায়াম আপনাকে হার্ট এ্যাটাক থেকে দূরে রাখতে সক্ষম। প্রচুর পরিমানে ফল, শাক-সবজি ও শস্য দানা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া হার্ট এ্যাটাক সহ বিভিন্ন রোগ থেকে পরিত্রান পেতে দুশ্চিন্তা মুক্ত ও বিষন্নতাহীন জীবনের পথ খুঁজে বের করতে হবে।

অনলাইনে ডক্টর ও টেলিমেডিসিন সেবা এখন খুব সহজ

আপনার শরীরে যদি এমন কোন লক্ষন দেখা দেয় অথবা আপনার মনে হয় আপনিও হার্ট এ্যাটাকের ঝুকিতে আছেন তবে অবহেলা না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। হার্টের যেকোন সমস্যায় পরামর্শের জন্য রয়েছেন অধ্যাপক ডাঃ মোঃ তৌফিকুর রহমান, হেড অব কার্ডিওলজি, মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেস (মালিবাগ)স্বাস্থ্য বিডি মোবাইল এ্যাপের মাধ্যমে দেশের যেকোন স্থান থেকে সরাসরি ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারবেন।

শুধু হার্ট এ্যাটাক নয় যেকোন ডাক্তারের অ্যাপয়েন্ট পেতে গুগল প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করুন স্বাস্থ্য বিডি মোবাইল অ্যাপ অথবা ভিজিট করুন https://shasthobd.com/ এবং বিস্তারিত জানতে কল করুন +8801400-040404 নম্বরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *