শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্প্রতি ফাটি লিভার নামক রোগ প্রায়ই দেখা যাচ্ছে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না হলে পরবর্তীতে যা মারাত্বক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে, যা থেকে পরবর্তীতে লিভার সিরোসিস এবং ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে।

লিভার বা যকৃতের কোষ সমূহে অতিরিক্ত চর্বি জমার কারনেই এ রোগ দেখা দেয়। বর্তমানে আঠারো থেকে বিশ ভাগ মানুষ নিজের অজান্তেই এই রোগে ভুগছে।

কারণ-

অতিরিক্ত মদ্যপান সেই সাথে আপনার ওজন যদি নিয়ন্ত্রণে না থাকে তবে আপনার শরীরের রক্তের চর্বি ও অন্যান্য চর্বি লিভারে গিয়ে জমা হয়, সেই অতিরিক্ত চর্বি লিভারকে ইনজুরি করতে থাকে। এক সময় এই ইনজুরির কারনে প্রদাহ শুরু হয় যাকে ফ্যাটি লিভার বা ন্যাস নামে আখ্যাযিত করা হয়, এই থেকেই পরবর্তীতে লিভার সিরোসিস হয়ে যায়। ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত রোগীদের এক জনের দশ থেকে বিশ জন পরবর্তীতে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হতে পারে।

লক্ষণ-

এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে শুরুতে খুব বেশি মাত্রার লক্ষণ প্রকাশ পায় না, কোন রুটিন টেষ্ট করতে গেলে আলট্রাসনোগ্রামে ধরা পরে লিভারে ফ্যাট জমে গেছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত দুর্বল লাগা, ক্ষধা কমে যাওয়া, ডান পাজরের নিচে হালকা ব্যথা অনুভব হতে পারে। সময় মতো রোগ নির্ণয় না করতে পারলে জন্ডিস দেখা দিতে পারে। সেই সাথে শরীরের বিভিন্ন অংশে পানি চলে আসে। পেটে পানি জমতে পারে যাকে বলা হয়ে থাকে এ্যাসাইটিস, বুকে পানি জমতে পারে, যাকে বলা হয় প্লুরাল ইফিউসন জটিল আকার ধারণ করলে রক্তবমি পর্যন্ত হতে পারে এবং পরবর্তীতে হেপাটিক এনকেফালোপ্যাথি হবার ঝুঁকি অনেকাংশেই বেড়ে যায়, যা থেকে ব্রেইন এ বিভিন্ন রকম সমস্যা দেখা দেয়।

করণীয়-

প্রথমত স্থলতা। যদি আপনার ওজন ইগও অনুসারে অতিরিক্ত বেশি হয়ে থাকে, তবে আজই ওজন কমানোর বিষয়ে মনোযোগ দিন। সঠিক চিকিৎসার পাশাপাশি অতিরিক্ত ওজন যদি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসা যায় তবে অচিরেই একজন ব্যক্তি এ রোগ থেকে সুস্থতা লাভ করতে পারে।

যারা ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত কিন্তু ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখছেন না অথবা যাদের এখনো ডায়াবেটিস হয়নি কিন্তু সুগার লেভেল বেশি বেশি থাকছে, তারাও এই ঝুঁকির মধ্যে থাকছেন।

যেসব মহিলারা জন্মনিয়ন্ত্রনের বড়ি খাচ্ছেন বা যাদের হরমোনাল ইমব্যালেন্স রয়েছে, যারা হাইবোয়েড রোগে আক্রান্ত, ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না, তাদের ক্ষেত্রেও ফ্যাটি লিভার হবার ঝুঁকি অনেকাংশেই বেশি।

আমাদের এশিয়ান দেশ গুলোর প্রধান খাদ্যই হচ্ছে ভাত বা কার্বোহাইট্রেট। যাদের ডিসলিপিডেমিয়া আছে বিশেষ করে ট্রাইগ্লিসারাইড অনেক বেশি তারাও খাদ্য তালিকা মেনে না চললে এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।

করনীয়-

দৈনিক শারীরিক পরিশ্রম এবং ব্যায়াম শরীরের ওজন ও লিভারের চর্বি কমাতে সাহায্য করে। সারাদিনে যদি অন্তত ৩০ মিনিট ঘাম ঝড়িয়ে খাটা যায়, সপ্তাহে অত্যন্ত ৫ দিন যদি এই নিয়ম ঠিক রাখা যায় তা খুব ভালো ফল দেবে।

কি খাবেন-

কিছু খাবার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখতে পারলে শরীর সুস্থ থাকে। জেনে নিন কোন কোন খাবার আপনার লিভারের সুস্থ্যতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

কচি বাধাকপিতে থাকে সালফার, যা ফ্যাটি লিভারের জন্য খুবই উপকারী। তাই শীতে খাদ্য তালিকায় বাধাকপিকে স্থান দিন। পালংশাক, ব্রকলি জাতীয় সবজি লিভার পরিষ্কার রাখে এবং লিভারের কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

লিভার ক্ষতিগ্রস্থ হয় শরীরের বিষাক্ত পদার্থের মাধ্যমে। পানি শরীর থেকে এই বিষাক্ত পদার্থকে বের করে দেয়। তাই লিভার সুস্থ রাখতে দিনে অন্তত ১০-১২ গ্লাস পানি পান করুন।

বেশি কিছু ঔষধ লিভারের ক্ষতি করে। বিশেষ করে অহরহ পেইন কিলার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

প্রতিদিন নিয়ম করে গ্রীন টি অথবা দুধ চিনি ছাড়া কফি খেতে পারেন, যা আপনার লিভারকে সুস্থ রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। তবে পরিমিত পরিমানে পান করবেন।

আপনার নিত্যদিনের খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন সবুজ আপেল। হাই ফাইবার সমৃদ্ধ এই ফল শুধু লিভার থেকে নয় রক্তনালি থেকে বিষাক্ত পদার্থ দুর করতে সহায়তা করে।

শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে রসুন বিশেষ ভূমিকা পালন করে। রসুনের মধ্যে থাকা এনজাইম শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক কোয়া রসুন খেতে পারেন।

কালোজাম লিভারের জন্য বেশ কার্যকর। তাই লিভার সুস্থ্য রাখতে মৌসুমী ফল হিসেবে কালো জাম খেতে পারেন। লিভার ভালো রাখতে করলা খেতে পারেন।

করলা শরীর থেকে টক্সিন দুর করে শরীরকে সুস্থ্য রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

জাম্বুরা ভিটামিন সি ও এন্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ফল। এটি লিভারকে প্রাকৃতিক উপায়ে পরিষ্কার করে। সেই সাথে খেতে পারেন ১ গ্লাস কুসুম গরম পানি।

লেবু লিভারের স্বাস্থ্য যেমন ভালো রাখে তেমনি টক্সিন দূর করে ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখে, এটি এন্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার।

টকদই ফ্যাটি লিভারের জন্য আরেকটি ভালো খাবার। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় টকদইকে স্থান দিন।

আমাদের এশিয়ান দেশ গুলোর প্রধান খাদ্যই হচ্ছে ভাত বা কার্বোহাইট্রেট। যাদের ডিসলিপিডেমিয়া আছে বিশেষ করে ট্রাইগ্লিসারাইড অনেক বেশি তারাও খাদ্য তালিকা মেনে না চললে এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত ব্যক্তিকে সব সময় স্যাচুরেটেড ফ্যাট কম খেতে হবে। অর্থাৎ ঘি, মাখন, মাংসের চর্বি, মাছের মাথা, মাছের ডিম এ জাতীয় খাবারগুলোকে এড়িয়ে চলতে হবে।

নেশা জাতীয় দ্রব্য যেমন মদ্যপান করা যাবে না, যা ফ্যাটি লিভারের অন্যতম কারণ। ফাষ্ট ফুড, জাক্ট ফুড, চকলেট, প্রসেস ফুড, আইসক্রীম, সফট ড্রিংকস, এগুলো খাবার কে না বলতে শিখুন।

ফ্যাটি লিভারে প্রোপার মেডিটেশনের পাশাপাশি অনেক খাবারই বেছে খেতে হবে। সে ক্ষেত্রে নিয়মমতো অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, পাশাপাশি ক্লিনিক্যাল ডায়েটেশিয়ানের শরনাপন্ন হয়ে মেডিকেশন, লাইফ স্টাইল এবং ডায়েট চার্ট তৈরির মাধ্যমে প্রতিদিনের জীবনযাপনের নিয়মকানুন গুলো মেনে চলাটা অত্যন্ত জরুরী।

ডা: মৌসুমী আফরিন ইভা

কনসালট্যান্ট ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান,ডায়াবেটলজিস্ট এন্ড ক্লিনিক্যাল নিয়ট্রিশনিস্ট।

অনলাইনে ডক্টর ও টেলিমেডিসিন সেবা এখন খুব সহজ

যেকোন ডাক্তারের অ্যাপয়েন্ট পেতে গুগল প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করুন 

স্বাস্থ্য বিডি মোবাইল অ্যাপ  অথবা ভিজিট করুন  স্বাস্থ্য বিডি ওয়েবসাইট এবং বিস্তারিত জানতে কল করুন +8801400-040404 নম্বরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *