শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ বছর মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব কোরবানির ঈদ আর অন্য দিকে বেড়ে চলেছে করোনা মহামারি ভয়াবহতা। তাই এবার সর্বজনীন ঈদের আনন্দধারা কিছুটা হলেও বিঘ্ন ঘটাবে।ঈদ হলো আনন্দের উপলক্ষ, আর এর অন্যতম অনুষঙ্গ হলো খাবার, যার মূল আয়োজনে থাকে কোরবানির গরুর বিভিন্ন রকমের মাংসের পদ। সেই সঙ্গে আয়োজন করা হয় নানারকম মুখরোচক উচ্চ ক্যালরি সমৃদ্ধ খাবার। ঈদ উৎসবে সবার অধিকার আছে মজার মজার খাবার খাওয়ার। দুই–একদিন বেশি খেলে ক্ষতি নেই। তবে খাওয়া উচিত একটু রয়ে সয়ে।।

ঈদের দিন তৈলাক্ত খাবার, পোলাও, বিরিয়ানি,কাবাব,রেজালা,বোরহানি,চটপটিসহ আরও অনেক খাবার খাওয়া হয়। তবে সকালে উঠেই এসব না দিয়ে দিন শুরু না করে, সেমাই বা ফিন্নী দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। সকালে হালকা নাশতার পর ২০ থেকে ৩০ মিনিট পরে অল্প পানি পান করে মসজিদ থেকে নামাজ সেরে আসুন।

ঈদে অনেকেই মাংস ও ভারী খাবার খাওয়ার পর কোমল পানীয় এর দিকে ঝুঁকে পরেন। মনে রাখবেন আপনি যত মিষ্টি জাতীয় খাবার খাবেন, এ জাতীয় খাবারের প্রতি আপনার আগ্রহ আরও দ্বিগুনভাবে বেড়ে যাবে। তাই ঈদ উপলক্ষে পরিমিত পরিমাণ কোমল পানীয় পান করতে পারেন।তবে, এর পরিবর্তে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ লেবুর শরবত বা টক দই দিয়ে বানানো হালকা মসলাযুক্ত বোরহানী স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ভালো।

অনেকেই আছের, যারা বেহিসাবি ভাবে প্রচুর পরিমাণে মাংস খেয়ে ফেলছেন। কিন্তু আঁশযুক্ত খাবার যেমন সালাদ বা শাক সবজি দিকে নজর দিচ্ছেন না অথবা শরীরের প্রয়োজন অনুয়ায়ী পানি পান করছেন না। যে কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এতে যারা পাইলস জাতীয় রোগে ভুগছেন,তাদের পায়ুপথ ফেটে রক্তক্ষরণ পর্যন্ত হতে পারে।যাদের আলসারের সমস্যা আছে। তারা বেশি গরম, শক্ত, ঝাল এবং তেল ,চর্বি ও মসলা যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। সেই সঙ্গে উৎসবের এই দিনে এতসব মুখরোচক খাবারের পাশাপাশি হাই ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার যেমন সালাদ, শসার রায়তা, সিজনাল ফ্রুট জুস ও কোষ্ঠকাঠিন্যের হাত থেকে রক্ষা পেতে ইসুবগুলের ভুসি খেতে পারেন। কোষ্ঠকাঠিন্য বা পেটের ব্যথা বেড়ে গেলে অমিডন, অ্যান্টাসিড, ওমিপ্রাজল, প্যান্টোপ্রাজল, ইসোমিপ্রাজল জাতীয় ওষুধ সেবন করতে পারেন।যাদের আই বি এস আছে, তারা দুগ্ধজাত খাবার এড়িয়ে চলুন। অতিমাত্রায় খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

যাদের ওজন বেশি তারা এখন থেকে ঘরের তৈরি কম ক্যালরি সমৃদ্ধ খাবার খেতে পারেন। নিয়মিত ব্যায়াম করুন ও কায়িক পরিশ্রম বাড়িয়ে দিন। যাতে ঈদের দুই–একদিন খাবারের হের ফের হলে ও ওজন ঠিক রাখা যায়।যারা উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস,গাউট বা কিডনি রোগে আক্রান্ত, তাদের অবশ্যই একটু নিয়ম কানুনের দিকে লক্ষ্য রেখেই খাবার গ্রহণ করা উচিত। মধ্যবয়স্ক অনেকেই একসঙ্গে প্রচুর পরিমাণর তৈলাক্ত ও চর্বিযুক্ত খাবার খেয়ে হজম করতে পারেন না। এ থেকে পেটে গ্যাস, জ্বালাপোড়া ও পেট খারাপসহ নানারকম সমস্যা সম্মুখীন হতে হয়।

যারা হৃদরোগ বা উচ্চরক্তচাপ জনিত রোগে ভুগছেন, তাদের খাবার সম্পর্কে সচেতনতা থাকাটা একটু বেশি জরুরি। পাশাপাশি যাদের কোলেস্টেরলের পরিমাণ অনেক বেশি। যারা ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত, তারা অবশ্যই তৈলাক্ত খাবার ও লাল মাংস পরিমিত পরিমাণে হিসেব করে করে খাবেন।

কোরবানির মাংস খেলে শরীরের খুব বেশি ক্ষতি হবে তা নয়, তবে সুস্থতার কথা মাথা রেখে সতর্কতা অবলম্বন করতে পারলে দিন শেষে আপনি ভালো বোধ করবেন।ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত রোগীরা মিষ্টি জাতীয় খাবার যে একদমই খেতে পারবেন না,তা কিন্তু নয়। যারা কিডনি রোগে ভুগছেন, তাদেরকে অবশ্যই প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার পরিমিত খেতে হবে। পাশাপাশি যাদের রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি, তাদের ক্ষেত্রেও লাল মাংস খাবার ব্যাপারে নিষেধ আছে। ডায়াবেটিস রোগীদেরও পরবর্তীতে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের কারণে কিডনি রোগাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে রোগ ও শরীরের চাহিদা অনুয়ায়ী খাদ্যতালিকা গুছিয়ে আজ থেকেই সচেতনতা গড়ে তুলুন।

যাদের বয়স কম, শারীরিক সমস্যা নেই, তারা নিজের মতো সবই খেতে পারবেন। বিশেষ করে করোনাসময়ে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারের প্রতি জোর দেয়া হচ্ছে। তবে অতিরিক্ত না খাওয়াই ভালো।ঈদ অবশ্যই আনন্দের। আর খাবারের তৃপ্তি না থাকলে আনন্দ অপূর্ণ থেকে যায়। ঈদ এবং ঈদ পরবর্তী সময়ে ভালো থাকতে খাবারের প্রতি যত্নশীল হবেন।

ডাঃ মৌসুমী আফরিন ইভা
কনসালট্যান্ট ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান, ডায়াবেটলজিষ্ট এন্ড নিউট্রিশনিষ্ট।
মেডিনোভা মালিবাগ শাখা, ঢাকা
সিনিয়র রেসিডেন্ট মেডিসিন বিভাগ
হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হসপিটাল।

অনলাইনে ডক্টর ও টেলিমেডিসিন সেবা এখন খুব সহজ

ক্লিনিকাল নিউট্রিশনিস্ট সহ যেকোন ডাক্তারের অ্যাপয়েন্ট পেতে গুগল প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করুন 

স্বাস্থ্য বিডি মোবাইল অ্যাপ  অথবা ভিজিট করুন  স্বাস্থ্য বিডি ওয়েবসাইট এবং বিস্তারিত জানতে কল করুন 

+8801400040404 নম্বরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *